Sunday, May 7, 2017

ফেরা

ঘন্টুর বয়স আঠার মাস। বেয়াক্কেলে ছিঁচকাঁদুনে। সন্ধ্যা পেরলেই আজান ও ভজন ছাপিয়ে সোনু নিগমকে ভয় দেখাবে এমন চিৎকার। সুশীলাবৌদি ভোলাতে না পেরে পাশে বসে নিজেই কাঁদতেন। বৌদি আর ঘন্টুর ঠাকুমা দুজনেরই দৃঢ় ধারণা ঘন্টু এটা যথাক্রমে বাবার বাড়ি ও মামার বাড়ির অভ্যাস পেয়েছে।কয়েকদিন হল ঘন্টু কাঁদছেনা, সন্ধ্যে হলেই "মাম্মাম উব্বাপ" বলে চোখ বন্ধ করে থাকে। বৌদিও থাকেন হতভম্ব হয়ে।

ডঃ সরকার বারিনবাবুকে দেখছেন তিরিশ বছর। অনেকদিন প্রেসার কমানর ওষুধ লিখে আসছেন কিন্তু বারিনবাবু পাত্তাও দেন না বন্ধুস্থানীয় ডাক্তারের পরামর্শকে। তিনি বলেন রামদেবের লাউয়ের (বাগানের) জুস খেয়েই সব নরমাল থাকে, য়্যালোপাথ আর গাঁটকাটারা একই মাল। ডঃ সরকার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন। কয়েকদিন হল বারিনবাবু সপ্তাহে দুবার আসছেন, জিজ্ঞাসা করেছেন দিনে দুবেলা একটা করে যেটা লিখেছেন ডঃ সরকার, দেড়টা করে খেলে কি খুব খারাপ হবে?

মুক্তিদাদু বসুবাবুর কনভয় এর হাবিলদার ছিলেন। দাদু মারা যাওয়ার পরেও মুক্তিদিদা ঘোরতর 'মাকু'। মৃনতুল ও জেপিবি কে কাঁসার বাসন পড়ার আওয়াজে গালমন্দ না করে ঘুমোন না। পাড়ার লোকে জানতে পারে মাননীয়া পিসিমা কি কি করলেন ও তার জন্য বাংলার কি কি ক্ষতি হল, মানে বসুবাবুও কি কি ক্ষতি তার ব্র্যান্ডের কর্ম(!)সংস্কৃতিতে করে যেতে পারেন নি যেটা পিসিমা করছেন চপ ভেজে। এহেন মুক্তিদিদা কদিন হল চুপ। বিশেষতঃ সন্ধ্যের পরে। জিজ্ঞাসা করলেই মুখ থেকে একটা ঘুঁ ঘুঁ শব্দ করে বলছে "আর কি?! আমাদের দিন তো ফুরাল".

70 পেরনো অরোরাজি সেন্ট্রাল মেট্রোর পাশে একটা গলিতে একটা singing বার চালান। অনেক বলাতেও তার singing বারকে dance বারে উন্নীত করতে রাজি হননি অরোরা সাহেব। পনেরো বিশ বছর ধরে গেয়ে আসা কুলসুম বা প্রতিমারা কোথায় যাবে বার বদলে গেলে? কুলসুম এর গলায় আজো "লাগ জা গলে" কথা বলে। প্রতিমা এখনো স্টেজে উঠবার আগে অরোরা সাহেবকে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে ওঠে। Dance বারে এসব পাবে? হুঁ হুঁ বাবা? কিন্তু দিন কয়েক হল সন্ধ্যের পর থেকে ফাঁকা ফাঁকা। লজ্জার মাথা খেয়ে পাশের ডান্সবারের মালিক ইসমাইল ভাই কে জিজ্ঞাসাও করেছেন একবার, ইসমাইল ভাই বলছেন তার আড্ডাতেও এই ভাঁটার টান। মাতালরা সব গেল কোথায়? অরোরাজি ভাবেন। বাকি রাস্তাঘাটে তো ভিড় কম নেই!

অর্নব গোস্বামী ফিরেছেন তার নতুন নিউজ চ্যানেল রিপাবলিক নিয়ে।

ভাল থাকুন।

সুস্থ থাকুন।

No comments:

Post a Comment